আপনার জীবনবৃত্তান্ত (CV) হচ্ছে একজন সম্ভাব্য চাকুরীদাতার কাছে আপনাকে উপস্থাপন করার প্রাথমিক মাধ্যম। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রার্থীরা তাদের CV সুন্দর ও সঠিকভাবে তৈরি করার দিকে গুরুত্ব দেন না। ফলশ্রুতিতে অনেক যোগ্য প্রার্থীই Job Interview-এ ডাক পান না এবং তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
CV তৈরির আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন
- চাকুরীদাতা সাধারণত CV-তে মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় দেয়। তাই এটি সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে তৈরি করুন।
- অনভিজ্ঞ বা সদ্য স্নাতক প্রার্থীর জন্য CV ১-২ পাতার বেশি হওয়া উচিত নয়।
- CV হচ্ছে আপনার নিজেকে প্রফেশনালি প্রদর্শনের মাধ্যম। আকর্ষণীয় রাখুন, তবে রঙিন কাগজ বা চটকদার ফন্ট ব্যবহার করবেন না। Highlight করতে হলে bold, italic বা underline ব্যবহার করতে পারেন।
- CV-তে বানান বা গ্রামার ভুল থাকলে চাকুরীদাতা নেতিবাচক ধারণা পেতে পারেন। তৈরির পর নিজে ভালো করে পড়ুন এবং প্রয়োজনে কারো কাছে দেখান।
- নির্দিষ্ট চাকরির জন্য CV কাস্টমাইজ করুন। চাকরির বিজ্ঞপ্তি এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে রিসার্চ করুন। উদাহরণস্বরূপ, যদি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়োগ দেয়, তাহলে পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সেই তথ্য উল্লেখ করুন।
- CV-তে সব তথ্য সঠিকভাবে দিন। মিথ্যা তথ্য দিবেন না, কারণ এটি Job Interview-এ প্রমাণিত হলে আপনার পক্ষে নেতিবাচক হবে।
জীবনবৃত্তান্তের (CV) বিভিন্ন অংশ
একটি CV-তে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করা উচিত:
- শিরোনাম (Title)
- সার সংক্ষেপ (Career Summary) – অভিজ্ঞদের জন্য
- ক্যারিয়ার উদ্দেশ্য (Career Objective) – সদ্য পাশ করা বা অল্প অভিজ্ঞদের জন্য
- কর্ম অভিজ্ঞতা (Experience)
- শিক্ষাগত যোগ্যতা (Education)
- অতিরিক্ত তথ্য (Additional Information)
- ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)
- রেফারেন্স (Reference)
শিরোনাম (Title)
CV-এর শুরুতেই থাকবে আপনার পুরো নাম, যা bold এবং একটু বড় ফন্টে লেখা উচিত। ডাক নাম পরিহার করুন। এর পর থাকবে বর্তমান ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ই-মেইল এড্রেস। এটি পৃষ্ঠার উপরে মধ্যখানে রাখুন যাতে প্রথমেই চোখে পরে।
Career Summary (সার সংক্ষেপ)
যাদের ৪-৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা আছে, তাদের জন্য এই অংশ প্রযোজ্য। সর্বোচ্চ ৬-৭ লাইনে পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং অর্জনগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করুন।
Career Objective (ক্যারিয়ার উদ্দেশ্য)
সদ্য পাশ করা বা অল্প অভিজ্ঞ প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। এখানে আপনার বর্তমান লক্ষ্য এবং যোগ্যতা কীভাবে চাকরির প্রয়োজন মেটাবে তা উল্লেখ করুন। সংক্ষিপ্তভাবে চাকরির জন্য প্রযোজ্য ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য দেখান। লক্ষ্য রাখুন কোম্পানিকে আপনি কী দিতে পারেন, কোম্পানির কাছ থেকে আপনি কী আশা করছেন না।
Experience (কর্ম অভিজ্ঞতা)
অভিজ্ঞদের জন্য এই অংশটি শিক্ষাগত যোগ্যতার আগে আসে। অল্প অভিজ্ঞদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার পরে উল্লেখ করা যেতে পারে।
- Organization Name (প্রতিষ্ঠানের নাম)
- Designation (পদবী)
- Time Period – From & To (সময়কাল)
- Job Responsibility (দায়িত্ব)
- Special Achievement (উল্লেখযোগ্য সাফল্য)
সর্বশেষ অভিজ্ঞতা আগে এবং ক্রমানুসারে পেছনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করুন। কম গুরুত্বপূর্ণ বা অল্প সময়ের অভিজ্ঞতা বাদ দিতে পারেন।
Education & Training (শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ)
- ডিগ্রির নাম (যেমন: SSC, HSC, BCom)
- কোর্স সময়কাল
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বোর্ডের নাম
- পরীক্ষার বছর এবং ফলাফল
- প্রয়োজনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য (যেমন: মেধাতালিকায় স্থান)
ফলাফল প্রকাশ না হলে ‘Appeared’, অধ্যয়নরত হলে ‘Ongoing’ লিখুন। খারাপ ফলাফল থাকলে উল্লেখ না করাই ভাল।
প্রশিক্ষণ অংশে প্রশিক্ষণের নাম, প্রতিষ্ঠান, বিষয়, সময়কাল এবং তারিখ উল্লেখ করুন।
Additional Information (অতিরিক্ত তথ্য)
- পেশাগত অর্জন / Professional Achievements
- পদক / সম্মাননা / Award
- ভাষাগত দক্ষতা / Language Literacy
- কম্পিউটার দক্ষতা / Computer Skills
- লাইসেন্স, সরকারি পরিচয়পত্র, প্রকাশিত লেখা ও স্বত্বাধিকার
- স্বেচ্ছাসেবী কর্মকান্ড
Personal Information (ব্যক্তিগত তথ্য)
পিতামাতা, বর্তমান/স্থায়ী ঠিকানা, ধর্ম, ভ্রমণ, শখ ইত্যাদি উল্লেখ করা যেতে পারে।
Reference (রেফারেন্স)
Reference অংশে আত্মীয়দের নাম না দিয়ে, শিক্ষাজীবন বা কর্মজীবনের পরিচিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করুন। ফোন নাম্বার, ঠিকানা এবং ই-মেইল উল্লেখ করতে হবে। সর্বোচ্চ ২-৩ জনের নাম যথেষ্ট। Reference দেওয়ার আগে তাদের অবগত করুন।